
‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান’— ‘ছাড়পত্র’ কবিতায় নুতনদের আগমনে এমনই বার্তা দিয়েছেন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-নেইমার জুনিয়ররা এবারের বিশ্বকাপে সেই কাজটাই করতে যাচ্ছেন। ফুটবলের ভবিষ্যত তারকাদের উত্থানে নিজেদের শেষটা দেখছেন কিংবদন্তিরা। ব্যাটনটা যাঁদের হাতে থাকবে সেই সব প্রতিভাবান তরুণদের গল্প শুনবো আজ।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে যাঁদের ওপর দৃষ্টি থাকবে চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই সব প্রতিভাবানদের।
লামিনে ইয়ামাল (১৮, স্পেন)
কৈশোর পেরোনোর আগেই তারকাখ্যাতি পান লামিনে ইয়ামাল। বার্সেলোনা-স্পেনের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় এবং গোলদাতাকে মনে করা হচ্ছে লিওনেল মেসি-ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সবচেয়ে যোগ্য উত্তরসূরি । মুখায়ব থেকে কৈশোরের ছাপ মুছার আগেই স্পেনকে ২০২৪ ইউরোয় চ্যাম্পিয়ন করেছেন তিনি। তার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি। তাই নিজের প্রথম বিশ্বকাপ হলেও স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে লামিনে।
নিকো পাজ (২১, আর্জেন্টিনা)
তারকায় ঠাসা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। লিওনেল মেসি তো বিশ্বকাপ জয়ের পর সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিতর্কে অনেকটা যতিচিহ্ন বসিয়ে দিয়েছেন। তাঁর বাইরে হুলিয়ান আলভারেস-এনজো ফার্নান্দেজরা এখন তারকা । তবে তাদের বাইরেও বিশেষ দৃষ্টি থাকবে নিকো পাজের ওপরে। তারকাদের ভীড়ে রিয়াল মাদ্রিদের নিজের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে না পারা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সুযোগ পেলে কতটা ভয়ংকর হতে পারেন তা ইতালির শীর্ষ লিগে দেখিয়েছেন। ‘সিরি আঁ’র দল কোমোকে চ্যাম্পিয়নস লিগে তুলতে তার অবদান অনন্য। কোচ সেস ফেব্রিগাসের অধীনে ১২ গোল ও ৭ অ্যাসিস্টে করেছেন ২১ বছর বয়সী অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
দেজিরে দুয়ে (২১, ফ্রান্স)
ব্রাজিল কিংবদন্তি নেইমার জুনিয়রের ‘সংক্ষিপ্ত ভার্সন’ বলা হয় দেজিরে দুয়েকে। নিজের ‘আদর্শ’র মতোই বল পায়ে ড্রিবলিংয়ে দর্শকদের মন জয় করেছেন। প্রতিপক্ষের কয়েকজনের ফাঁক গলিয়ে বের হয়ে যাওয়ার কৌশলটা দারুণ রপ্ত করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারের অভিষেক বিশ্বকাপ খেলতে নামার আগে তাই প্রতিভার ছাপ রেখেছেন ২১ বছর বয়সী উইঙ্গার। ২০২৪-২৫ মৌসুমে পিএসজির প্রথম চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের ফাইনালে জোড়া গোল করে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার তো আর এমনি এমনি জেতেননি তিনি। এবারও ইউরোপ সেরার মুকুট ধরে রাখার পথে করেছেন ৫ গোলের বিপরীতে ৪ অ্যাসিস্ট।
এন্ড্রিক (১৯, ব্রাজিল)
বিশ্বফুটবলের আরেক বিস্ময়বালক এন্ড্রিক। রিয়াল মাদ্রিদে সুযোগ কম পাওয়ায় নিজেকে মেলে ধরতে পারছিলেন না তিনি। বিশ্বকে প্রতিভার জানান দিতে তাই বিকল্প পথ ধরেন ব্রাজিল তারকা। ধারে খেলতে যান লিওতে। সুযোগ পেয়ে ফ্রান্সের ক্লাবটির হয়ে এখন উড়ছেন তিনি। ১৯ ম্যাচের বিপরীতে সমান ৮টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট তাই সাক্ষ্য দেয়। ‘লিগ আঁ’র পারফরম্যান্সটাই এবার নিজের প্রথম বিশ্বকাপে দেখানোর অপেক্ষায় ১৯ বছর বয়সী উইঙ্গার।
আর্দা গুলের (২১, তুরস্ক)
ছোট দলের বড় তারকা আর্দা গুলের। তবে প্রতিভার জানান অনেক আগেই দিয়েছেন তুরস্কের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। রিয়াল মাদ্রিদের মূল একাদশের নিয়মিত সদস্যই শুধু নন, মাঝমাঠের ‘ইঞ্জিন’ তিনি। বাঁ পায়ের এই জাদুকরকেই কেন্দ্র করে মাঠে নামবে তুরস্ক। ভবিষ্যতের ফুটবল তারকার এটাই প্রথম বিশ্বকাপ।
গিলবার্তো মোরা (১৭, মেক্সিকো)
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেয়েই রেকর্ড গড়েছেন গিলবার্তো মোরা। গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে মাঠে নেমে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন তিনি। মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছে তাঁর। তাতে ভেঙে যায় ৯৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল মানুয়েল রোসাসের (১৮)। প্রতিভাবান বলেই এমন রেকর্ড গড়ার সুযোগ পেয়েছেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।

