
কানাডার বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে কলম্বিয়ার হাজার হাজার সমর্থকে ঠাসা গ্যালারির একটি ছোট্ট অংশে ছিলেন সুইজারল্যান্ডের লাল জার্সিধারী দর্শকেরা। তবে ১২০ মিনিটের গোলশূন্য ড্রয়ের পর, টাইব্রেকারে পেনাল্টি শুটআউটের শেষ শটে গোল করে কলম্বিয়াকে হারিয়ে সুইজারল্যান্ডের সমর্থকদের মুখে পরম হাসি ফোটালেন রুবেন ভার্গাস। প্যানাল্টি শ্যুটআউটে কলম্বিয়াকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে সুইশরা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলা ০-০ গোলে অমিমাংসিত থাকার পর ম্যাচ গড়ায় পেনাল্টি শুটআউটে। পুরো ১২০ মিনিট জুড়ে দুই দলের সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘরানার ফুটবল ট্যাকটিক্স প্রদর্শন করেছে। সুইজারল্যান্ডের রক্ষণাত্মক কৌশলের বিপরীতে কলম্বিয়া খেলেছে অল-আউট এটাকিং ফুটবল। যদিও বল দখলে সুইসরা কিছুটা এগিয়ে ছিল, তবে দুই দলই গোলপোস্টে অন-টার্গেট শট নিতে পেরেছিল মাত্র দুটি । ম্যাচের প্রথমার্ধে কলম্বিয়ার গুস্তাভো পুয়ের্তার একটি দুর্দান্ত দূরপাল্লার শট দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। দ্বিতীয়ার্ধেও কলম্বিয়া আক্রমণের চাপ ধরে রাখলেও সুইজারল্যান্ডের জমাট ডিফেন্স ভাঙতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়।
মূলত ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধে এবং অতিরিক্ত সময়ে কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের একের পর এক সহজ সুযোগ নষ্টের মহড়া চলেছে। অতিরিক্ত সময়ের মাঝামাঝি সময়ে লুইস সুয়ারেজ বক্সের ভেতর সম্পূর্ণ ফাঁকায় বল পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট মারেন। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে কলম্বিয়ার বদলি খেলোয়াড় জামিন্টন কাম্পাস গোলপোস্টের একদম সামনে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে বল পেলেও তিনি বলটি বারের অনেক উপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন। এই সুবর্ণ সুযোগগুলো হেলায় না হারালে কলম্বিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটের ভাগ্যপরীক্ষায় পড়তে হতো না।
১২০ মিনিটের গোলখরা শেষে টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধে রূপ নেয় এই ম্যাচ, যেখানে সুযোগ হাতছাড়ার ধারা বজায় রাখে কলম্বিয়াই। তাদের ডিফেন্ডার ডেভিনসন সানচেজের নেওয়া প্রথম পেনাল্টি শটটি গোলপোস্টের ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হলে শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় লাতিন দলটি। এরপর কুচো হার্নান্দেজের নেওয়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শট সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল দুর্দান্ত ডাইভ দিয়ে সেভ করে দিলে সুইসদের জয় সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। টুর্নামেন্টে ইতোমধ্যে দুটি গোল করা রুবেন ভার্গাস শেষ শটে কোনো ভুল করেননি। তিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ৪-৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জয় নিশ্চিত করে।
অথচ এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বেশ বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপে ছিল সুইজারল্যান্ড। সোমবার অনুশীলনের সময় চোট পেয়ে দল থেকে ছিটকে যান তাদের তরুণ মিডফিল্ডার জোহান মানজাম্বি। এমনকি ম্যাচের নায়ক রুবেন ভার্গাস নিজেও চোটের কারণে সোমবারের অনুশীলন শেষ না করেই মাঠ ছেড়েছিলেন। তবে সুইস কোচ তাকে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত সময়ে মাঠে নামান, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়। এর আগে ১৯৫৪ সালে ঘরের মাঠে শেষবার বিশ্বকাপের শেষ আটে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। এরপর গত তিনটি বিশ্বকাপেই তারা শেষ ষোলোর বাধা টপকাতে পারেনি, যা অবশেষে ২০২৬ সালের এই মঞ্চে এসে পূর্ণতা পেল।
এই হারের মাধ্যমে আরও একবার বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব থেকে ট্রাজিক বিদায় নিতে হলো কলম্বিয়াকে। ২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া দলটি ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে উরুগুয়েকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও স্বাগতিকদের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিল। আগামী শনিবার কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে তারা। এই দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয়েছিল ২০১৪ বিশ্বকাপে, যেখানে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ১-০ ব্যবধানে হেরে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নিয়েছিল সুইজারল্যান্ড।

