
মাঠে নামার আগে আশরাফ হাকিমি বলেছিলেন, ‘ব্রাজিল এখন আগের ব্রাজিল নেই।’ তার প্রমাণও দিলেন তারা। ব্রাজিলকে আটকে দিয়ে। ভাগ্যকে পাশে পেলে সেলেসাওদের বিপক্ষে জয় নিয়েও মাঠ ছাড়তে পারত তারা। সেটা সম্ভব না হলেও এক পয়েন্ট ঠিকই আদায় করে নিয়েছে মরক্কো। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছে দুদল।
তবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে দারুণ খেলেছে মরক্কোই। তার প্রমাণ ম্যাচ শুরু হতেই পাওয়া যায়। রেফারির কিক অফের বাঁশি শেষ হওয়ার অপেক্ষায় যেন আজ ছিল মরক্কো। তা না হলে ব্রাজিলের রক্ষভাগকে এমন দৌড়ের ওপর রাখার কথা ছিল না। শুরুর ১২ মিনিট হাই প্রেসিংয়ে ৫বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এলোমেলো করে দেন আশরাফ হাকিমি-ব্রাহিম দিয়াজরা।
সে সবকে কাটিয়ে উঠে যখন বল পজিশন নেওয়ার পথে ব্রাজিল ঠিক তখনি গোল হজম করে বসে তারা। ২১ মিনিটে দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইসমাইল সাইবারি। দিয়াজের পাস ধরে ঠান্ডা মাথায় ব্রাজিলের গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করেন পিএসভির স্ট্রাইকার। বিমর্ষ ব্রাজিল অবশ্য ম্যাচে ফিরতে খুব বেশি সময় নিলো না।
৩২ মিনিটে সেলেসাওদের সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বাঁ প্রান্তে শরীরের নাচনে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বক্সের মধ্যে থেকে বুলেট গতির শট নরন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সচরাচর যেসব গোল করেন ঠিক তার মতোই ছিল আজকেরটি। জোরালো শটটি ঠেকানোর চেষ্টা করেও তাই সফল হলেন না গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। যোগ করা সময়ে অবশ্য ঠিকই দলকে বাঁচিয়েছেন তিনি।
বক্সের মধ্যে থেকে লুকাস পাকেতা দারুণ এক ভলি নিয়েছিলেন। সিজার কিকের মতো নেওয়া শটটি জালেই জড়াত যদি শেষ মুহূর্তে বাঁদিকে ঝাপিয়ে পড়ে সেভ না দিতে বুনু।
দ্বিতীয় দুদলের কেউই গোলের তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। তবে শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত সেভ দিয়েছেন ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার। ডি বক্সের বাইরে থেকে দারুণ এক শট নিয়েছিল মরক্কোর খেলোয়াড়। সেটা কোনো রকমে সেভ দিলেও বিপদ কাটছিল না ব্রাজিলের। তবে ফিরতি সুযোগও প্রতিহত করে ব্রাজিলকে বাঁচান বেকার। তাতে ১-১ ড্রয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।

