
‘প্রেম ধীরে মুছে যায় নক্ষত্রেরও একদিন মরে যেতে হয়’ জীবনানন্দ দাশের ‘দুজন’ কবিতার বিখ্যাত এক পঙক্তি। অর্থাৎ, পৃথিবীতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়। একদিন না একদিন সবাইকে থামতে হয়। আজ যেমন থামলেন লিওনেল মেসি। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন তিনি। আর কোনোদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যাবে না তাঁকে।
বিদায় বলাটা যে কত কষ্টের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে স্পষ্ট করেছেন মেসি। তবে বিদায়বেলা আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জানিয়েছেন, অবসরের এটাই উপযুক্ত সময়। নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী প্লে মেকার। তাঁর আর দেওয়ার মতো আর কিছু নেই। নিচে তার পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘ফাইনালে খেলা শেষ হওয়ার কিছুদিন পর বেশ ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাই যে জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি…
সিদ্ধান্তটি মেনে নেওয়া আমার জন্য অনেক কষ্টের ছিল, এখনো কষ্ট দিচ্ছে; তবে বুঝতে পারছি এটাই উপযুক্ত সময়। প্রতিজ্ঞা করে বলছি, আমি সব সময় আমার সর্বোচ্চটা দিয়েছি—শুধু শেষ কয়েক বছর নয়, যখন আমরা সবকিছু জিতেছি। একদম শুরু থেকেই এই জার্সির জন্য লড়াই করেছি, যেন ফুটবলে আপনাদের আনন্দ দিতে পারি এবং আর্জেন্টিনার নাগরিক হিসেবে আপনাদের গর্বিত করতে পারি।
সময় ফুরিয়ে আসছিল এবং একের পর এক অধ্যায় শেষ হয়ে আসছে, আর এই অধ্যায়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আমি ভালোবেসেছি, ভালোবেসে যাব। আমি আমার সবটুকু নিংড়ে দিয়েছি, আর দেওয়ার মতো কিছু বাকি নেই। এ ছাড়া অনেক তরুণ ও অসাধারণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা সুযোগ পাওয়ার যোগ্য।
২০ বছর ধরে আমাকে ভালোবাসার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। দলের ভেতর থেকে আপনাদের চিৎকার শোনাটা খুব মিস করব। এখন থেকে আমিও আপনাদের মতোই একজন হয়ে বাইরে থেকে সব সময় দলকে সমর্থন ও উৎসাহ জুগিয়ে যাব (ভালো সময়ে তো বটেই, খারাপ সময়ে আরো বেশি)।
আমার পরিবারকে সব সময় পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ। এই সুন্দর কিন্তু কঠিন যাত্রায় আমাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য।
ধন্যবাদ আমার সব কোচ, সতীর্থ এবং কর্মকর্তাদের। যাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। অগণিত স্মৃতি এবং স্মরণীয় মুহূর্তগুলো সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।
শান্তি এবং গর্ব নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। সতীর্থদের সঙ্গে আপনাদের স্বপ্নের মতো কিছু মুহূর্ত উপহার দিতে পেরেছি। আপনাদের সঙ্গে কাটানো এই সময়টা দারুণ ছিল। আমি আপনাদের ভালোবাসি!
আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে পাঠানোর জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। এগিয়ে যাও আর্জেন্টিনা!’
*এই কথাগুলো আমি ২১ জুলাই, ফাইনালের দুই দিন পরে লিখেছিলাম। বাবার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর, আজ আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত যে আমার সিদ্ধান্তটি সঠিক।*

