
গোল হজমের পর হয়তো অনেকের মাথায় এমন কথাই ঘুরছিল। আজ আর লাভ নাই। ফাইনাল নয়, বাড়ির টিকিটই কাটতে হবে আর্জেন্টিনাকে। আগের ম্যাচগুলোয় কামব্যাক করলেও আজ আর হবে না। প্রতিপক্ষ যে বেশ শক্তিশালী। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
মিশর-সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পারলেও তাই ইংলিশদের বিপক্ষে আর গল্প লেখা হবে না আর্জেন্টিনার। শেষ বাঁশির সময় যত ঘনিয়ে আসছিল ততই হয়তো শঙ্কাটা ভারী হচ্ছিল। কিন্তু লিওনেল মেসিরা অন্য কিছুর ছক কষে রাখছিল। হাসিমুখে যখন মাঠ ছাড়ার প্রস্তুতি নিবে ঠিক তখনি ইংল্যান্ডের আনন্দ কেড়ে নিবে। ঠিক যেভাবে মিশর-সুইজারল্যান্ডের মুখের খাবার কেড়ে নিয়েছিল তারা।
তা না হলে এই রূপকথার গল্পকে আর কী বা বলবেন। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর ২-১ ব্যবধানের জয়, এক কথায় অবিশ্বাস্য। বিশ্বকাপে একের পর এক কামব্যাকে যেন জানান দিলো—আমাদের দাবায়ে রাখা যাবে না।
কাউন্টার অ্যাটাকে ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ‘আহত বাঘ’ হয় আর্জেন্টিনা। বাঘকে থামিয়ে জয়ে মাঠ ছাড়তে গোলবারের সামনে ‘চীনের মহাপ্রাচীর’ সাজায় ইংল্যান্ড। আর শেষ ম্যান হিসেবে তিন কাঠির নিচে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো জর্ডান পিকফোর্ড। দুর্দান্ত ৩ টি সেভ দিয়ে বীরত্বেরও প্রমাণ দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক।
তবে আহত বাঘ যখন ক্ষুধায় জ্বলে তখন আর কতক্ষণই আটকে রাখা যায় তাদের। আটলান্টায় আজ রাতে ইংল্যান্ডও পারেনি আর্জেন্টিনাকে থামাতে। তাদের সব বাধা ডিঙিয়ে জয়ের হাসি হেসেছেন মেসিরা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইংল্যান্ডকে মরণ কামড় দিয়েছে তারা।
শুরুটা হয়েছে ৮৫ মিনিট। এনজো ফার্নান্দেজের অবিশ্বাস্য এক দূরপাল্লার শটে। বক্সের বাইরে থেকে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জাল খুঁজে নেন চেলসির মিডফিল্ডার। তার দুর্দান্ত গোলে উজ্জীবিত আর্জেন্টিনাকে আর থামায় কে? উত্তেজনা জিইয়ে রেখে যোগ করা সময়ে জয়ের গোলও পায় তারা। ৯২ মিনিটে হেডে গোলটি করেন বদলি নেমে ‘সুপার সাব’ বনে যাওয়া লাউতারো মার্তিনেজ। দুটি গোলেরই অ্যাসিস্টকারী দলের ‘প্রাণভোমরা’ মেসি।
মার্তিনেজের বল জালে জড়াতেই আর্জেন্টিনার বুনো উল্লাস। ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ডের পাগলাটে দৌড়ের পর তাকে জড়িয়ে ধরে সতীর্থদের সে কী উল্লাস। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট এনে দেওয়া গোল বলে কথা! তবে আসল উদযাপনটা হলো রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর। যেভাবে যেভাবে পারল দিল খোলা উল্লাসে মাতল আর্জেন্টাইনরা। তবে ব্যতিক্রম ৩৯ বছর বয়সী ‘এক তরুণ’। বুনো উদযাপন যাকে খুব কমই স্পর্শ করেছে সেই মেসি আজ হাঁটু গেড়ে বসে গগণবিদারি চিৎকার দিলেন মাটির দিকে দুই হাত ছুঁড়ে। একটানা ৮ বার দিয়েও থামেন না তিনি। শেষে আরও ৩ বার দিয়ে সতীর্থকে বুকে জড়িয়ে থামেন মেসি।

